বরিশালের উজিরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উজিরপুর পৌরসভার আয়োজনে পৌর এলাকার টেম্পোস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক উম্মে সালমা খানুন।অভিযান চলাকালে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন ওষুধ স্প্রে করা হয়। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় পৌর প্রশাসক উম্মে সালমা খানুন বলেন, ‘শুধু মশক নিধন ওষুধ স্প্রে করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান খান, উজিরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রোকনুজ্জামান টুলু, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান সুমন বালী, সহ-সম্পাদক বখতিয়ার হোসেন বুলবুল, উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মিজানুর রহমান মিঠু বালী এবং পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. শামীম ভূঁইয়া।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
অভিযান শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গুমুক্ত উজিরপুর গড়ে তুলতে প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
Leave a Reply